চীনে চমক দেখাচ্ছে ব্রিটিশ জেলিক্যাট

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্লাশ টয় ব্র্যান্ড জেলিক্যাট গত কয়েক বছরে অপ্রত্যাশিত সাফল্য পেয়েছে চীনের বাজারে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্লাশ টয় ব্র্যান্ড জেলিক্যাট গত কয়েক বছরে অপ্রত্যাশিত সাফল্য পেয়েছে চীনের বাজারে। শিশুদের জন্য তৈরি হলেও এসব খেলনার সবচেয়ে বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে জেন-জি এবং টেডি বিয়ার বা খেলনা সংগ্রাহক মিলেনিয়াল কিডাল্টরা।

মূলত নরম কাপড় ও তুলা বা তন্তু দিয়ে তৈরি হয় প্লাশ টয়। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে টেডি বিয়ার, নরম পুতুল ও কাপড়ের বানানো পশু বা বিভিন্ন বস্তুর আকৃতির খেলনা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মানসিক স্বস্তির খোঁজে নরম খেলনার দিকে ঝুঁকছেন প্রাপ্তবয়স্করা। অবসাদ কাটানোর জন্য অনেকে এ ধরনের খেলনা আলিঙ্গনে ধরে রাখেন। ২০২১ সালে কভিড-মহামারীকালে চাকরি হারান বেইজিংয়ে ৩২ বছর বয়সী স্টেলা হুয়াং। এরপর প্রথমবার জেলিক্যাট কেনেন তিনি। এখন স্টেলার সংগ্রহে ১২০টি খেলনা রয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৩৬ হাজার ইউয়ান বা প্রায় ৫ হাজার ১৪৫ ডলারের সমপরিমাণ। স্টেলা বলেন, ‘প্লাশিগুলো আমাকে অনুভূতি সামাল দিতে সাহায্য করে।’

জেলিক্যাটের জনপ্রিয়তার মূল চালিকাশক্তি হলো অ্যামিউজিবলস সিরিজ। যেখানে রয়েছে বিস্কুট ঘর, বেগুন, ডিম, টয়লেট রোলের মতো দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রীর আদলে নির্মিত খেলনা, আর সব নকশায় রয়েছে হাস্যরত মুখ। চীনে প্লাশ বেগুনকে ডাকা হয় অবারজিন বস, যা কর্মজীবনের ক্লান্তি ও হতাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

জেলিক্যাট ২০১৫ সালে চীনা বাজারে প্রবেশ করে। পরে মহামারীর সময় অনিশ্চয়তার আবহে মানসিক স্বস্তি দেয়, এমন খেলনার চাহিদা বাড়লে ব্র্যান্ডটি সে সুযোগ লুফে নেয়। পপ-আপ স্টোর, সীমিত সংস্করণের পণ্য এবং চীনে চা-পাত্র ও কাপের মতো নকশার স্থানীয়করণ এসব খেলনার জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। গত বছর জেলিক্যাটের আয় ৬৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪৬ কোটি ডলার। একই সময়ে চীনে অনলাইন প্লাটফর্মে বিক্রি হয়েছে আনুমানিক ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জেলিক্যাট পণ্য।

চীনের সংগ্রহযোগ্য খেলনার বাজারের আকার ২০২৫ সালে ১১ হাজার কোটি ইউয়ানে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। দেশটির ধীর অর্থনীতি, ১৭ শতাংশের বেশি যুব বেকারত্ব, সম্পত্তি খাতের সংকট মিলিয়ে জেলিক্যাট এখন অনেকের কাছে ‘ইমোশনাল লাক্সারি’। দাম কম হওয়ায় এ ধরনের খেলনা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়াও সহজ।

তবে কেউ কেউ মনে করছেন, চীনে জেলিক্যাটের জনপ্রিয়তা শীর্ষে পৌঁছে গেছে। দেশটির সামাজিক মাধ্যমে প্লাশ টয় নিয়ে আলোচনা আগের তুলনায় কমছে। অনেক ক্রেতা সস্তা ও উত্তেজনাপূর্ণ ব্লাইন্ড বক্স খেলনার দিকে ঝুঁকছেন। আবার কেউ কেউ খেলনা সংগ্রহের শখ থেকে সরে আসার কথাও ভাবছেন। —খবর বিবিসি

আরও